Tuesday, 12 June 2018

লাইলাতুল কদর : অাজকের রাতে আমাদের করণীয়-

#কুরআন অধ্যয়ন : এ রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে। মানব জাতির এ বিরাট নিয়ামতের কারণেই এ রাতের এত মর্যাদা ও ফজিলত। এ কুরআনকে ধারণ করেলেই মানুষ সম্মানীত হবে, দেশ ও জাতি মর্যাদাবান হবে; গোটা জাতির ভাগ্য বদলে যাবে। কাজেই এ রাতে অর্থ বুঝে কুরআন পড়তে হবে। কুরআনের শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করতে হবে। বাছাইকৃত কিছু আয়াত এ রাতে মুখস্তও করা যেতে পারে। যাদের কুরআনের উপর প্রয়োজনীয় জ্ঞান রয়েছে তাঁরা এ রাতে একটি দারসও প্রস্তুত করতে পারেন।
#নামাজ,পড়ার নিয়ম : ন্যুনতম ৮ রাকাত থেকে যত সম্ভব পড়া যেতে পারে। এজন্য সাধারণ সুন্নতের নিয়মে ‘দু’রাকাত নফল পড়ছি’ এ নিয়তে নামাজ শুরু করে শেষ করতে হবে। এ জন্য সূরা ফাতিহার সাথে আপনার জানা যেকোনো সূরা মিলালেই চলবে। বাজারে প্রচলিত কিছু বইতে ৩৩ বার সূরা আল্ কদর, ৩৩ বার ইখলাস ইত্যাদি উল্লেখ করে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
এছাড়া সালাতুল তাওবা, সালাতুল হাজত, সালাতুল তাসবিহ নামাজও আপনি পড়তে পারেন। এগুলোর নিয়ম আপনি মাসয়ালার বইগুলোতে পাবেন। রাতের শেষভাগে কমপক্ষে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব। কারণ এ নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ নফল নামাজ। আর রাতের এ অংশে দোয়া কবুল হয়। নফল নামাজের সংখ্যার হিসাবের চেয়ে নামাজের গুণগত দিকটির দিকে আমাদের বেশি লক্ষ্য রাখতে হবে।
-এছাড়াও #কাযানামাজ পড়া,কেননা এ মাস হাজার মাসে চেয়ে উত্তম। এটা আল্লাহ তাআলার ঘোষণা। সে মতে, মানুষ দুনিয়ার জীবনে অসংখ্য নামাজ কাযা করে থাকেন। যারা নামাজ কাযা করেছেন বা পড়তে পারেননি তারাসহ সকল মুমিন বান্দার জন্য কাযা আদায় করার সুবর্ণ সময় হলো লাইলাতুল কদরে বিগত জীবনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অন্তত একবার কাযা আদায় করা।
#জিকির ও দোয়া : হাদিসে যে দোয়া ও জিকিরের অধিক ফজিলতের কথা বলা হয়েছে সেগুলো থেকে কয়েকটি নির্বাচিত করে অর্থ বুঝে বার বার পড়া যেতে পারে। ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও দরুদ আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। কমপক্ষে ১০০ বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার দরুদ পড়া যেতে পারে। হযরত আয়েশা রা: বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা: কে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ- যদি কোনো প্রকারে আমি জানতে পারি রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে কি দোয়া করব? জবাবে নবী সা: বলেন, এ দোয়া পড়বে- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন কারিমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।” অর্থাৎ ‘আয় আল্লাহ তুমি বড়ই মাফ করণেওয়ালা এবং বড়ই অনুগ্রহশীল। মাফ করে দেয়াই তুমি পছন্দ কর। অতএব তুমি আমাদেরা গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও।’
#আত্মসমালোচনা : আত্মসমালোচনা অর্থ আত্মবিচার। অর্থাৎ আপনি নিজেই নিজের পর্যালোচনা করুন।। জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোতে আল্লাহর কতগুলো হুকুম অমান্য করেছেন, আল্লাহর ফরজ ও ওয়াজিবগুলো কতটা পালন করেছেন এবং তা কতটা নিষ্ঠার সাথে করেছেন, ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় কি কি বড় গুনাহ আপনি করে ফেলেছেন, আল্লাহর গোলাম হিসাবে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় আপনি কতটুকু ভূমিকা রেখেছেন- এগুলো ভাবুন, যা কিছু ভালো করেছেন তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন, আর যা হয়নি তার জন্য আল্লাহর ভয় মনে পয়দা করুন, সত্যিকার তওবা করুন। এ রাতে নিরবে নিভৃতে কিছুটা সময় এ আত্মসমালোচনা করুন, দেখবেন আপনি সঠিক পথ খুঁজে পাবেন। আত্মসমালোচনা আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তুলবে। আত্মসমালোচনা আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মহান আল্লাহ বলেন- ‘হে ঈমানদার লোকেরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় কর এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্য (পরকাল) সে কি প্রেরণ করেছে তা চিন্তা করা’(সূরা হাশর : ১৮)
#মুনাজাত : মুনাজাতের মাধ্যমে বান্দার বন্দেগি ও আল্লাহর রবুবিয়াতের প্রকাশ ঘটে। বান্দাহ তার প্রভূর কাছে চায়। প্রভূ এতে ভীষণ খুশি হন। মহন আল্লাহ তার বান্দার প্রতি এতটাই অনুগ্রহশীল যে, তিনি তার কাছে না চাইলে অসস্তুষ্ট হন। ‘যে আল্লাহর নিকট কিছু চায় না আল্লাহ তার উপর রাগ করেন’- (তিরমিযি)। ‘দোয়া ইবাদতের মূল”- (আল হাদিস)।’ যার জন্য দোয়ার দরজা খোলা তার জন্য রহমতের দরজাই খোলা রয়েছে’- (তিরমিযি)। কাজেই আমরা কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করব, ক্ষমা চাইব, রহমত চাইব, জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইব।
উপরোক্ত আমলের মাধ্যমে আমরা এ পবিত্র রাতগুলো কাটাতে পারি। লাইলাতুল কদর পাওয়ার তামান্না নিয়ে নিষ্ঠার সাথে অনুসন্ধান করলে আল্লাহ আমাদের বঞ্চিত করবেন না ইনশাআল্লাহ। অবশ্য নফল ইবাদত নিরবে নিভৃতে ঘরে আদায় করাই মাসনুন। এতে আমাদের ইবাদত রিয়া (প্রদর্শন ইচ্ছা) দোষে দুষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। এ পবিত্র রাতে কিছু অনাকাঙ্খিত কাজ হতে দেখা যায়। এগুলো বন্ধ করার জন্য গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
সর্বোপরি আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজ, জিকির-আজকার, কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়ন, দান-খয়রাত, মা-বাবার খেদমতসহ ভালো কাজের মাধ্যমে কদরের রাতটি আতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Friday, 8 June 2018

সালাত/নামায আাদায় করতেই হবেঃ(পর্ব-৩)

#অযু করে নামায পড়তে হয়,পানি নেই…তায়াম্মুম করে নামায পড়তে হবে। #মাটি নেই…বিনা অযুতে বিনা তায়াম্মুমে নামায পড়তে হবে। #পশ্চিম দিকে মুখ করে নামায পড়তে হয়…পশ্চিম বোঝা যায়না,বিনা পশ্চিমে নামায পড়তে হবে। #দাড়িয়ে থেকে নামায পড়তে হয়…দাড়িয়ে থাকা যায়না,বসে থেকে নামায পড়তে হবে। #বসে থেকে নামায পড়া যায়না…শুয়ে থেকে নামায পড়তে হবে। #পরিষ্কার কাপড় পড়ে নামায পড়তে হয়…পরিষ্কার কাপড় নেই,যেই প্যান্টে-যেই লুজ্ঞিতে পেশাব লেগে আছে,পায়খানা লেগে আছে...এই কাপড় পড়েই নামায পড়তে হবে। ***কারনবশত:কোন কাপড়ই নেই…উলজ্ঞ অবস্থাতেই তাকে নামায পড়তে হবে,পড়তেই হবে।
-বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেন :তোমরা দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে,তাতে সামর্থ্য না হলে বসে। যদি তাতেও সক্ষম না হও তাহলে কাত হয়ে শুয়ে।
সহিহ বুখারী হাদীস নং- ১১১৭ ।
#নামাযই একটা ইবাদাত …যার মাফ নেই,যার বিকল্প কোন পথ ঘাট নেই!... *হজ্বের বদল চলে,নামাযের বদল চলে না। হজ্বের কিভাবে বদল চলে?? আমি অসুস্থ আপনাকে টাকা দিলাম,আপনি হজ্ব করলেন হজ্ব আমার হয়ে গেল,,,হজ্বের বদল চলে, নামাযের বদল চলে না। *রোযার বদল চলে…আপনি অসুস্থ-সিয়াম পালন করতে পারছেন না,সকাল সন্ধা আর একজনকে খাওয়ালেন…রোযা আপনার হয়ে গেল…..গেল,,,রোযার বদল চলে, নামাযের বদল চলে না। ***তাই, বহুদিন র্পুবে-ইমাম আহমদ বিন (রাহঃ)বলেছেন, কেউ যদি অলসতা করে এক ওয়াক্ত নামায ছেড়ে দেয়…তাহলে,তাকে কুরবানী(হত্যা) করতে হবে!...
***বহুদিন র্পুবে-ইমাম আবু হানিফা (রাহঃ)বলেছেন, অলসতা করে কেউ যদি এক ওয়াক্ত নামায ছেড়ে দেয়…তাহলে,তাকে জেলখানায় বন্দি করতে হবে…বাহিরে থাকার সে সুযোগ রাখেনা!...
#নামায, এমন একটা ইবাদাত-পড়তেই হবে…
[অাব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বক্তব্য থেকে নেওয়া।]
অাসুন অামরা ৫ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারিত সময়ে অাদায় করি।মনে রাখবেন যারা সালাত অাদায় করে তাঁরা মুসলমান।অার যারা সালাত অাদায় করে না তাঁরা কাফের।

Thursday, 7 June 2018

এক খ্রিষ্টান পাদ্রী হযরত বায়েজীদ বোস্তামি (রহ.) কে অাশ্চর্যজন কঠিন থেকে কঠিনতর একগাধা প্রশ্ন করেছিলো এবং বলেছিলো উত্তর দিতে পারলে প্রাদ্রীসহ অসংখ্য খ্রিষ্টান মুসলিম হয়ে যাবে অার না পারলে বায়েজিদকে হত্যা করবে।বায়েজিদ তখন পাদ্রীকে প্রশ্ন করার অনুমতি দিয়েছিলো।
বায়েজীদ বোস্তামির জীবনী পড়ছিলাম সেখানে নিম্নের প্রশ্ন উত্তর গুলো বেশ ভালো লেগেছে কারণ প্রতিটি উত্তরগুলোই জ্ঞানগর্ভ কুরঅান এর অায়াত থেকে।তাই মনে হল ফেবুর বন্ধুদের সাথেও এ বিষয়টি শেয়ার করি একাসাথে ভালো কিছু জানি ও জ্ঞানলাভ করি।যাই হোক পাদ্রী ও বায়েজীদ এর প্রশ্ন উত্তরগুলো ৩ পর্বে সাজিয়েছি, অাজকের প্রথম পর্বে থাকছে প্রাদ্রির করা সংখ্যাতাত্ত্বিক প্রশ্ন ও বায়েজিদের দেওয়া তাঁর উত্তরগুলো।
১.পাদ্রী-এমন একক কে,যার ২য় নেই?
বায়েজিদ-অাল্লাহ তায়ালা।
২.পাদ্রী-এমন ২টি বস্তু কি?যার ৩য় নেই?
বায়েজীদ-রাত এবং দিন।[অাল্লাহ তায়ালা বলেন,অামি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি।(সূরা বনী ইসরাঈল,অায়াত-২২)]
৩.পাদ্রী-এমন ৩টি বস্তু কি?যার ৪র্থ নাই।
বায়েজীদ-অারশ,কুরসী এবং কলম।
৪.পাদ্রী-এমন ৪টি বস্তু কি?যার ৫ম নাই।
বায়েজীদ-অাসমানী ৪টি কিতাব।
৫.পাদ্রী-এমন ৫টি বস্তু কি?যার ৬ষ্ঠ নাই।
বায়েজীদ-পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।
৬.পাদ্রী-এমন ৬ষ্ঠ বস্তু কি?যার ৭ম নাই।
বায়েজীদ-যে ছয়টি দিনে অাল্লাহ্ তায়ালা অাসমান,যমীন তদস্হিত বস্তু সৃষ্টি করেছেন।[অাল্লাহ তায়ালা বলেন,যিনি অাসমান ও যমীন এবং যা কিছু অাছে সেগুলোর মধ্যখানে রয়েছে ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন।(সূরা ফোরক্বান,অায়াত-৫৯)]
৭.পাদ্রী-এমন ৭ বস্তু কি?যার ৮ম নাই।
বায়েজীদ-সাত অাসমান।[অাল্লাহ তায়ালা বলেন,যিনি সপ্ত অাসমান সৃষ্টি করেছেন একটার উপর অপরটা।(সূরা মূলুক,অায়াত-৩০)]
৮.পাদ্রী-এমন ৮টি বস্তু কি?যার ৯ম নাই।
বায়েজীদ-অারশ বহনকারী অাটজন ফেরেস্তা।[অাল্লাহ তায়ালা বলেন,এবং সে দিন অাপনার প্রতি পালকের অাটজন ফিরিশতা তাদের উপর বহন করবে।(সূরা হাক্বক্বাহ্,অায়াত-১৭)]
৯.পাদ্রী-এমন ৯টি বস্তু কি?যার ১০ম নাই।
বায়েজীদ-নয়জন যমীনে ফ্যাসাদ সৃষ্টকারী।[অাল্লাহ তায়ালা বলেন,এবং শহরের মধ্যে নয়জন লোকছিল,যার ভূপৃষ্টে অশান্তি সৃষ্টি করত।(সূরা নাম্ল,অায়াত-৪৮)]
১০.পাদ্রী-এমন ১০টি বস্তু কি?যার ১১তম নাই।
বায়েজীদ-তামাত্তুকারী দম দিতে অক্ষম হলে যে দশটি রোজা রাখবে।[অাল্লাহ তায়ালা বলেন,অতঃপর যার জন্যে সম্ভবপর না হয়,তবে সে ৩টি রোজা হজ্জের দিনগুলোতে রাখবে এবং সাতটা যখন অাপন গৃহে ফরি যাবে।এ পূর্ণ দশটা হল।(সূরা বাক্বরা,অায়াত-১৯৬)]
১১.পাদ্রী-১১ সম্পর্কে বলুন।
বায়েজীদ-হযরত ইউসুফ অা. এগারজন ভাই।[অাল্লাহ তায়ালা বলেন,নিশ্চয়ই অামি এগারটি নক্ষত্র দেখেছি।(সূরা ইউসুফ,অায়াত-৪)]
১২.পাদ্রী-১২ সম্পর্কে বলুন,
বায়েজীদ-বারমাস।[অাল্লাহ তায়ালা বলেন,নিশ্চয় মাসগুলোর সংখ্যা অাল্লাহর নিকট বারো মাস।(সূরা তওবা,অায়াত-৩৬)]
১৩.পাদ্রী-১৩ সম্পর্কে বলুন-
বায়েজীদ-হযরত ইউসুফ অা. যেই তেরজনকে তাঁকে সম্মান করতে স্বপ্নে দেখলেন।[অাল্লাহ তায়ালা বলেন,অামি এগারটি নক্ষত্র,সূর্য এবং চন্দ্রকে অামার জন্য সিজদা করতে দেখি।(সূরা ইউসুফ,অায়াত-৪)]
১৪.পাদ্রী-এমন ১৪টি বস্তু কি,যাদের সাথে অাল্লাহ তায়ালা কথা বলেছেন?
বায়েজীদ-সাত অাসমান এবং সাত যমীন।[অাল্লাহ তায়ালা অাসমান ও পৃথিবীকে বললেন,উভয়ে হাজির স্বেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়।(সূরা হা-মীম,সাজদাহ্,অায়াত-১১)]

স্বপ্নের অপ্সরী(পর্ব-৩)

স্বপ্নের অপ্সরী অাদনানের স্বপ্নেই রয়ে গেলো,
তাহাকে সে দেখেও দেখলো না।দেখলোনা বললে ভুল হবে, তাকে দেখতে দিলোনা।
অাজ ক্লাসের অফ টাইমে অাদনান ভার্সিটির লেকের পাড়ে গিয়ে এ দুদিনে ঘটে যাওয়া পুরো বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করলো,
ভার্সিটির প্রথম দিনের ক্লাসে ওর জোকস শুনেও এক মাত্র যে মেয়েটি হাসলো না,সেদিনকার মোটা মেয়েটার সাথে ধাক্কা লাগায় যে মেয়েটি ওকে ঝাড়ি দিয়েছিলো,অাসলে উক্ত দুটো ঘটনা একটি মেয়ের সাথেই ঘটে প্রথম দিন অাদনানের দৃষ্টি ঐ মেয়েটির দিকে গেলেও তার চেহারার দিকে ক্ষণিকের জন্যে কিন্তু তৃতীয় কোন একটা বিষয় যা মেয়েটাকে দেখার অাকর্ষণ কেড়ে নেয় এবং যা অাদনান সেদিনকে বারং বার মনে করতে চেয়েও ব্যার্থ হয়,যার ফলে দ্বিতীয় দিনে মেয়েটিকে চিনতে পারে নি।
অাদনান প্রথম দিনের স্বপ্ন,ঐ দিনের ক্লাসে বিশেষ কিছুর প্রতি দৃষ্টি অাকর্ষণ এবং যেটি ও ভুলে যায় এবং মনে করতে চেয়েও পারে না সেটি,দ্বিতীয় দিনে ধাক্কা তৃতীয় কোন এক সুন্দরী মেয়ে এসে ওকে ঝাঁড়ি এসকল ঘটনা ও ডাইরিতে লিখে রাখে ও প্রতি রাতে ঘুমানোর অাগে তা নিয়ে ভাবে এবং অাজকের ক্লাসে দেখা অসামাপ্ত স্বপ্ন নিয়ে ভাবে,তারপর গত দুদিনের ঘটণাগুলোর সাথে সংযুক্ত করে সমীকরণ অাকারে মিলাতে শুরু করে।সমীকরণ মেলাতে মেলাতে একসময় আদনান ক্লান্ত হয়ে যায়, যার ফলে আদনানের চোখ লেগে আসে।চোখের সামনে আবারো সেই চেনা অপ্সরী। আর,এইবার পালাতে পারেনি।ঠিকি ধরা পড়েছে।আরে! এতো সেই মেয়ে...পরক্ষনেই আদনান চোখ মেলে তাকালো।এবং ভার্সিটিতে দৌড়ে গেলো।কারণ,তার সব সমীকরণ মিলে গিয়েছে।এখন তার সাথে কথা বলাই বাকি।
অাদনান ক্যাম্পাসে গিয়ে তাকে খুঁজতে শুরু করলো,অতঃপর তাকে পেলো,সে মোটু মেয়েটা সহ অারও বেশ কয়েকজন বান্ধবীর সাথে ক্যান্টিনে বসে গল্প করছে।
অাদনান মোটা মেয়েটিকে ডাকলো বললো-
-তুমি তোমার ঐ ফ্রেন্ডকে একটু লেকের পাড়ে আসতে বলো।
:কেনো?
-একটু কথা ছিল।প্লিজ ওকে যেভাবেই হোক লেকের পাড়ে পাঠাও।
:ওকে,পাঠাচ্ছি।
-ধন্যবাদ আপুনি।
:ঠিক আছে।
লেকের পাড়ে গিয়ে অাদনান অপেক্ষায় রইলো,অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘঠিয়ে সে এলো,
:অাপনি এখানে অামায় ডাকার কারণ-
-তেমন কিছু নয়,কয়েকটি প্রশ্ন করবো শুধু তাঁর উত্তরগুলো দিলেই হবে...
:সম্ভবপর ও দেওয়ার মতো হলে দিবো...
-তোমার নাম?
:নীলা,
-কলেজে প্রথম দিনে তুমি কি কালার এর ড্রেস পড়ে এসেছিলে?
:নীল একটা (সেলোয়ার কামিজ)
-তোমার ঘাড়ে কি কোনো তিলা আছে?..
: হুম,কিন্তু.....(নীলা কিছু একটা বলতে যাবে, তার আগেই আদনান বলে)
- আর,মুখের পাশে মেকাপ করে কৃত্রিম তিলাটি দেওয়ার কারণ কি?
-এবার নীলা বিস্মিত হয়ে গেলো,সে বললো অাপনি কি করে জানলেন অামার ঘাড়ে একটি তিলা অাছে অার এটি তো চুলের অাড়ালে থাকে এটি তো অাপনার জানার কথা নয়,সবথেকে বড় কথা হলো অামার গালের তিলাটি তো তেমন কেউই ধরতে পারে না অাপনি কি করে ধরলেন,,
এবার অাদনান কিছুখন স্তব্ধ হয়ে গেলো এরপর ও নীলাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
"প্রেম আমার প্রথম দিনের আলো
শেষ বিকেলের পথ
প্রেম আমার স্বপ্নে দেখা রাজকুমারী
তেপান্তরের মাঠ
প্রেম যেন স্বপ্নে পাওয়া তুমি
প্রেম যেন স্বপ্নে দেখা তুমি........
এই নীলা তুমি কি জানো?
তুমি হলে আমার স্বপ্নে দেখা অপ্সরী,"
এরপর অাদনান হাঁটু গেড়ে নীলাকে প্রথমে একটা কৃত্রিম নীল ফুল এরপর প্রাকৃতিক টকটকে লাল ফুল দিলো বললো,তোমায় স্বপ্নেই ভালবেসেছি আর, বাস্তবে তোমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি।আমায় ফিরিয়ে দিওনা।
নীলা হতবাক হয়ে গেলো,বিস্মিত হয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো অাদনান এর দিকে,কোন কিছুই ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারছিলোনা....কারন,এইদুটো ফুল যে নীলার খুব পছন্দের।আর,আদনান সেইটা কিভাবে জানলো।অনেক প্রশ্ন নীলার মাথায় ঘুরছিলো।
অাদনান নীলাকে একটা চিঠি দিলো সেখানে অাদনানের দেখা গত দুদিনের স্বপ্ন লেখা ছিলো।আর
সেই চিঠি পড়েই নীলা সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যায়।
নীলা কিছুটা অবাক হয় যে এটা কিভাবে সম্ভব! পরক্ষনেই ভাবে, নীলা তো এমন কাওকেই চেয়েছিল যে কিনা তাকে না দেখেই ভালবাসবে, খুব ভালবাসবে।
নীলা আদনানের হাত থেকে ফুল গুলো নিয়ে বললো,
-তোমার স্বপ্নে দেখা অপ্সরীকে সারাজীবন ভালবাসবে তো?
: হুম,বাসবো।
-সারাজীবন পাশে থাকবেতো?
: হুম,মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকবো।তোমায় যে খুব ভালবেসে ফেলেছি।
-তাহলে চলো দুজন মিলে ভালবাসাময় রাজ্য গড়ি।
এর পর আদনান আর নীলা পায়ে পা মিলিয়ে চলে তাদের ভালবাসাময় রাজ্য গড়তে সেই চেনা পথটায়।
(সমাপ্ত)